বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন মাত্র ৪৯৯ টাকা! সাবস্ক্রাইব করুন →

ওদের হারাতে দিয়ো না (৫ম পর্ব): পোস্টারিং-এর টুকিটাকি

গত পর্বে কী শিখেছিলাম মনে আছে তো?[১] গত পর্বে আমরা শিখেছি পোস্টারিং-এর মৌলিক কিছু বিষয়। পোস্টারিং কেন করব, পোস্টার কোত্থেকে সংগ্রহ করব, কী কী উপকরণ লাগবে, কোথায় কীভাবে সাঁটব, কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে – এসব বিষয় নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। মনে না থাকলে চট করে পড়ে মস্তিষ্ক ঝালাই করে নাও, কাজ আছে। কী কাজ পরে বলছি। 

আজকে আমরা আলোচনা করব পোস্টারিং-এর আনুষাঙ্গিক কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে। কথা না বাড়িয়ে চলো শুরু করি। 

টিম গঠন

তুমি একা কাজটা করলে যতটা ফলপ্রসূ ও প্রভাবশালী হতো, কয়েকজন মিলে করলে তার চেয়ে বহুগুণ ফলপ্রসূ হবে। আর বলাই বাহুল্য, কাজটাও সহজ হয়ে যাবে। তাই কাজে নামার আগে তোমার বন্ধু, ভাই-ব্রাদারদেরকেও তোমার পরিকল্পনা জানাও। তাদেরকে কাজটার প্রয়োজনীয়তা বোঝাও। তবে জোর খাটানোর দরকার নেই, যে আসবে নিজ থেকেই আসবে। 

এরপর একটা টিম দাঁড়িয়ে গেলে টিমের একেকজন একেকটা দায়িত্ব নাও। কেউ পোস্টার সংগ্রহের দায়িত্ব নাও, আরেকজন গাম ও ব্রাশ কেনার দায়িত্ব নাও—এভাবে নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে ফেলো। পোস্টারিং-এর সময় একজন পোস্টারে গাম লাগাবে, একজন পোস্টার দেয়ালে সাঁটবে ও একজন ছবি-ভিডিও নিবে৷ মানুষজন বেশি হলে ৩/৪ জন করে ছোট ছোট টিমে ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা কাজ করো। তাহলে কম সময়ে বেশি জায়গায় পোস্টারিং করতে পারবে। 

প্রচারণা

আমরা তো চাই সমাজ বিনির্মাণের এই কাজগুলো আরও ছড়িয়ে যাক, আরও বেশি মানুষ যুক্ত হোক। এক্ষেত্রে একটা চমৎকার হাতিয়ার কিন্তু তোমার নিজের ফেসবুক। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছ। পোস্টারিং শেষ করে সেই ছবি-ভিডিওগুলো নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পোস্ট করতে পারো। তাহলে তোমাদের কাজগুলো অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। তাদের মধ্যে অনেকে তোমাদের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কাজে নামবে। তখন তোমাদেরও ভালো লাগবে। 

এছাড়াও পোস্ট করতে পারো তোমাদের প্রস্তুতির ছবি। অর্থাৎ, সবাই মিলে বসে পরিকল্পনা করার ছবি, পোস্টার সংগ্রহ করার সময় পোস্টারের ছবি, বাজারে আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে যাওয়ার সময় সকলের একসাথে সেলফি। পোস্টারিং শেষে নিজেরা বসে নাস্তা-পানি করার সময় সেলফি তুলেও পোস্ট করতে পারো। ক্যাপশন হতে পারে “পোস্টারিং শেষে ভাই-ব্রাদারদের সাথে এক কাপ চা”। তোমরা আরও ক্রিয়েটিভ ক্যাপশন দিতে পারবে, আমি জানি। 

জনসংযোগ

আমরা আগেই জেনেছি যে, পোস্টারিং করতে হবে এমন জায়গায় যেখানে মানুষের আনাগোনা বেশি৷ এমন জায়গায় পোস্টারিং করলে দেখবে কিছু মানুষ তোমাদের কাজ দেখছে। তাদের সাথে নিজ থেকে গিয়ে কথা বলো। তারা বাদেও আশেপাশের মানুষদের সাথে নিজে যেচে পড়ে কথা বলো। নিজেদের পরিচয় দিয়ে মার্জিত ভাষায় তাদেরকে বুঝিয়ে বলো তোমরা কেন পোস্টারিং করছো, পোস্টারের বিষয়বস্তু কী, সমাজের কোন সমস্যাটির বিষয়ে তোমরা মানুষকে সচেতন করছো ইত্যাদি৷ কেউ প্রশ্ন করলে সহজে তাদের বুঝিয়ে দাও। দেখবে তারাও তোমাদের সাথে একমত হবে, তোমাদের কাজের তারিফ করবে। দেখবে তখন মনের মধ্যে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। 

এছাড়াও তোমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিতে পারো ও সেটা ভিডিও করে রাখতে পারো। যে সমস্যাটা নিয়ে তোমরা কাজ করছো তারা সেটা নিয়ে কী ভাবে, সমাজে এই সমস্যার প্রভাব কী, তোমাদের কাজটা তাদের কেমন লাগছে, এ ধরনের কাজকে তারা সমাজের জন্য জরুরি মনে করেন কিনা—এমন প্রশ্ন করতে পারো। এই ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তোমাদের কাজের প্রচারণা ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে কাজে লাগাতে পারো। 

প্রয়োগ

এতক্ষণ ধরে আমরা খুটিনাটি থিওরি সম্পর্কে জেনেছি। এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করার। এক্ষেত্রে অনেক চমৎকার সুযোগ তোমাদের সামনে রয়েছে। যেমন: বর্তমানে ফেইসবুক, টিকটক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউবে রিলস দেখে বা ভিডিও গেইমস খেলে শিশু-তরুণ-বৃদ্ধ সকলেই অনেক সময় নষ্ট করছে। এতে যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলোয় ব্যঘাত ঘটছে, পাশাপাশি আমাদের শরীরের, বিশেষ করে মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হচ্ছে। সমাজের সকল স্তরের মানুষ কোনো না কোনো ভাবে স্ক্রিনে আসক্ত। এই স্ক্রিন আসক্তি সম্পর্কে সমাজের মানুষকে সচেতন করার জন্য পোস্টারিং একটি চমৎকার মাধ্যম। এতে করে কম কষ্টে, কম খরচে বেশি মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে। এভাবেই ধীরে ধীরে আসবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। আজ থেকেই স্ক্রিন আসক্তি বিরোধী পোস্টারিং-এর পরিকল্পনা করা শুরু করতে পারো। নাম দিতে পারো ‘বোকা বাক্সের দাসত্ব আর না’। আরও ক্রিয়েটিভ কোনো নাম দিলে মোটেও রাগ করব না।

তবে আর বসে থাকা কেন? কোমর বেঁধে নেমে পড়ো, পোস্টারে পোস্টারে রঙিন করে দাও সবকটি দেয়াল। 


তথ্যসূত্র:

১. গত পর্ব পড়ে নাও এখান থেকে – https://sholo.org/oder-harate-dio-na-4

ষোলোকে ছড়িয়ে দিন